বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় একযোগে ৪৯টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্ষতিসাধনসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছে। এসব মামলার বিচারিক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর অনুমতি পাওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং লাইসেন্সের সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগে অভিযুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান সেই শর্ত লঙ্ঘন করায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন–সংক্রান্ত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আর বৈধভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় দেশের পরিচিত বেশ কয়েকটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, প্রতারণা এবং কর্মপ্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ বিদেশগামী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমানো এবং বিদেশে কর্মসংস্থান ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।