বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন পাওয়া প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন–২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন–২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ফৌজদারি ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন–২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গঠন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেই অভিযোগপত্র গ্রহণের পরই তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি পরিচিত রিক্রুটিং এজেন্সি, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ বিদেশগামী কর্মীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বৈধ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও এটি কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।