স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব গ্রহণ করছে না নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনী যোগ্যতার বিষয়ে একাধিক নতুন বিধান যুক্ত করে সরকারের কাছে সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি, ঋণখেলাপির জামিনদার, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তবে আচরণবিধির সংশোধন নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সক্রিয় নেতাদের নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার ক্ষমতা কমিশনের নেই। আইনে নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে আদালত থেকে খালাস বা অব্যাহতি পেলে সেই অযোগ্যতা আর বহাল থাকবে না। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপির জামিনদার ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালকদেরও নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে—এমন বিধান যুক্ত করারও সুপারিশ করেছে কমিশন।
নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আপিল ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া, নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ বাড়ানো এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।