জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় নির্মাতার উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের মিশ্র-বহর নীতির অংশ

এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি আগস্টে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২২ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময় , আপডেট সময় : ২২ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় নির্মাতার উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের মিশ্র-বহর নীতির অংশ হিসেবে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০৩১ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দাম ও অন্যান্য শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একই বহরে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাস—উভয় নির্মাতার উড়োজাহাজ পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের জাতীয় বিমান সংস্থার বহর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চারটি দূরপাল্লার প্রশস্ত দেহের উড়োজাহাজ এবং ছয়টি মাঝারি দূরত্বের রুটে চলাচলের উপযোগী উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও বিমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই আলোচনার পরই ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।


সরকারের মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিমানকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। এর আগে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও নতুন প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সরকার দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র-বহর গঠনের নীতিতে এগিয়েছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন দূরপাল্লার উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিক দীর্ঘ রুটে এবং মাঝারি আকারের উড়োজাহাজ আঞ্চলিক, উপসাগরীয় ও এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পরিচালিত হবে। এতে রুটভিত্তিক পরিচালন দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যয়ও আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। এর লক্ষ্য জাতীয় বিমান সংস্থাকে আধুনিক করা, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।


বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মিশ্র-বহর কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে পরিচালন সক্ষমতা, রুট ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যিক নমনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি যাত্রী চাহিদা ও রুটের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯