২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের জন্ম দেয়নি, ভেঙেছে একের পর এক গোলের রেকর্ডও। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মোট গোল নিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ১০৪ ম্যাচে হয়েছে ৩০৮টি গোল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ম্যাচপ্রতি গড়ে ২ দশমিক ৯৬ গোল হয়েছে এবারের আসরে। যদিও গোলগড়ের হিসেবে এখনো শীর্ষে রয়েছে ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ, যেখানে মাত্র ২৬ ম্যাচে হয়েছিল ১৪০ গোল। সেই আসরে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ছিল অবিশ্বাস্য ৫ দশমিক ৩৮।
গোলগড়ের তালিকায় ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা আসর। ১৯৩৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি গোলগড় ছিল ১৯৫৮ সালে, এরপর ১৯৭০ বিশ্বকাপ। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর আবারও প্রায় তিন গোলের গড় নিয়ে শেষ হলো একটি বিশ্বকাপ, যা আধুনিক ফুটবলের আক্রমণাত্মক রূপকেই তুলে ধরেছে। গ্রুপ পর্বেই ৭২ ম্যাচে হয়েছে ২১৫ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় প্রায় ৩টি। আর নকআউট পর্বের ৩২ ম্যাচেও গোলের ধারা অব্যাহত ছিল। শেষ ষোলো থেকে ফাইনাল পর্যন্ত হয়েছে ৯৩ গোল। এমনকি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মিলে উপহার দিয়েছে ১০ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই।
বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের ফলে ম্যাচের সংখ্যা বাড়লেও শুধু সেটিই গোল বৃদ্ধির কারণ নয়। দলগুলো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলেছে, যার প্রভাব পড়েছে গোলের পরিসংখ্যানে। এবারের বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়রাও গড়েছেন নতুন ইতিহাস। শুধু গ্রুপ পর্বেই বদলি নেমে এসেছে ৪৩টি গোল, যা বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড। পাঁচজন বদলি নামানোর নিয়ম আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উচ্চ প্রেসিং, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, উইং ব্যবহার, কার্যকর সেট-পিস এবং গোলরক্ষকদের দীর্ঘ পাস—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে দেখা গেছে আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের নতুন ধারা। তবে গোলের উৎসবের মাঝেও সবচেয়ে বিস্ময়কর গল্প লিখেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেই শিরোপা জিতেছে দলটি। অর্থাৎ এবারের বিশ্বকাপ যেন আবারও প্রমাণ করেছে—আক্রমণ ম্যাচ জেতায়, কিন্তু শিরোপা জিততে প্রয়োজন শক্তিশালী রক্ষণ। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ৭০ গোল দিয়ে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপ গোলগড়ের কিংবদন্তি তৈরি করেছিল। ১৯৯৮ সালে শুরু হয়েছিল ৩২ দলের যুগ। আর ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এমন এক আসর হিসেবে, যেখানে ফুটবল আবারও গোলের উৎসবে বিশ্বকে মাতিয়ে তুলেছিল।