দক্ষিণ আমেরিকার অভিজ্ঞ এক তারকা মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানোর পর বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি শীর্ষ ফুটবল ক্লাব। খেলোয়াড় নিবন্ধন ও দলবদলের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পেশাদার ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষ। লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।
ক্রীড়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ফুটবলারের সঙ্গে যোগাযোগের আগে নির্ধারিত অগ্রাধিকার অধিকার গ্রহণ না করেই আলোচনায় যাওয়ার অভিযোগ তোলে পশ্চিমাঞ্চলের আরেকটি ক্লাব। এরপর তারা লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। তবে অভিযুক্ত ক্লাবের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতোমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে। তারপরও পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাব নির্দিষ্টসংখ্যক সম্ভাব্য খেলোয়াড়কে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখতে পারে। সেই তালিকায় থাকা কোনো ফুটবলারের সঙ্গে আলোচনার প্রথম অধিকার সংশ্লিষ্ট ক্লাবের থাকে। অন্য কোনো ক্লাব তাকে দলে নিতে চাইলে আগে সেই অধিকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কিনে নিতে হয়। নিয়ম অনুসারে, প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে অগ্রাধিকার অধিকার হস্তান্তর করা যায়। এরপর তালিকাভুক্ত ক্লাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয় সেই অধিকার ছেড়ে দিতে পারে, নয়তো খেলোয়াড়কে বাস্তবসম্মত চুক্তির প্রস্তাব দিতে পারে।
পরবর্তীতে দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কয়েক বছর চুক্তি বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। এদিকে পুরো বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন তারকা ফুটবলার নিজেও। তিনি জানান, আগে থেকেই অন্য ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা হলেও নিজের ইচ্ছার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, পরিবারসহ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লোরিডা শহরকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে দেখেন। তাই নিজের পছন্দের ক্লাবেই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ। এখন সবার নজর সেই তদন্তের ফলাফলের দিকে।