রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও নানা গুঞ্জনের মধ্যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে পারেন—যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আপাতত গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে। তিনি জানান, যদি রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করতে চান, তাহলে তার সেই সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সেই পত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পরই তা কার্যকর হবে এবং আলাদা কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে পদত্যাগের ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না; সংবিধানেই পরবর্তী দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না থাকলেও, বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।