বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। তার কর্মকাণ্ড ও আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে তদন্তের আবেদন করা হলেও, সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে— এ বিষয়ে তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হলে বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগ করে, রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে ফিফার নীতি থেকে সরে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, ফিফা সভাপতির আচরণ অলিম্পিক সনদে উল্লেখিত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী। অভিযোগের জবাবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি জানায়, বিষয়টি মূলত ফিফার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফুটবলের নিয়ম বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব বিষয় অলিম্পিক কমিটির নৈতিকতা বিধির আওতায় পড়ে না। তাই ফিফা বা তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর ক্ষমতা তাদের নেই।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ফেডারেশনের সভাপতি জানিয়েছেন, পরবর্তী বোর্ড সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।