নারী–সম্পর্কিত বিতর্কের জেরে দল থেকে বহিষ্কৃত এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তাকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও এসব ভিডিও এবং অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই সংসদ সদস্যকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলের লবি, করিডর ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকের করা একটি মামলায় ওই সংসদ সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
এদিকে বহিষ্কারের পর আরও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে হোটেলের বিভিন্ন স্থানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
মামলার বাদী, যিনি ওই সংসদ সদস্যের সাবেক ব্যক্তিগত গাড়িচালক, গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গোপন রাখতে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সরকারি কাজ ও চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।