দেশজুড়ে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায়

গ্যাসের জন্য হাহাকার

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময় , আপডেট সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহক—সবখানেই চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার প্রায় অর্ধেক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।


এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। গ্যাসনির্ভর পোশাক, বস্ত্র, নিটওয়্যারসহ বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।


আবাসিক এলাকাতেও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার কিংবা এলপিজি ব্যবহার করছে। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে কেউ কেউ কাঠের চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্ভোগ। অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক স্টেশন পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ না থাকায় সীমিত সময় পরিচালিত হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতেও ভোগান্তি বাড়ছে।


গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় বড় ধরনের লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শিল্পকারখানায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের মেরামতকাজ চলছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংস্কারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯