২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৪১ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বেঞ্চ প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ পর্যালোচনা করে তা আমলে নেয়। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেক সাবেক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আদালত পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দিয়েছেন। এদিকে মামলার কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে পরিচালিত অভিযানে ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই দিনের সমাবেশ শেষে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে মামলাটি এখন আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ার নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।