হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকা ফিরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। হামলার পর তারা পৃথক স্থানে আশ্রয় নিলেও পরে পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সার্কিট হাউজে পৌঁছান। রাতেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে শহরের টাউন হল চত্বরে দলের পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষ হওয়ার পর নেতাদের বহর সার্কিট হাউজের দিকে রওনা দেয়। পথে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। হামলার মুখে একটি গাড়ি দ্রুত সার্কিট হাউজে পৌঁছালেও সারজিস আলমের গাড়ি ধাওয়ার শিকার হলে তিনি সাময়িকভাবে একটি ভবনে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। পরে রাতেই অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিছু সময়ের জন্য শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছে দলটি। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রূপ নেয়। ঘটনার পর হবিগঞ্জ শহরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা।