ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ইসরায়েলে প্রভাব হারাচ্ছে নেতানিয়াহুর ‘ট্রাম্প কার্ড’

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৫:২৯ সময় , আপডেট সময় : ২৯ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৫:২৯ সময়

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই কূটনৈতিক সুবিধা আগের মতো কার্যকর থাকছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নেতানিয়াহু নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক বজায় রেখে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ যোগাযোগ তাকে এই অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে।


কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত অবস্থান নেতানিয়াহুর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি, বসতি স্থাপন নীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কও তার গ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলছে।


এমন অবস্থায় ওয়াশিংটন সফরে গেছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দুই নেতার সম্পর্ক এখনো দৃঢ় রয়েছে—এমন বার্তা ইসরায়েলি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে নেতানিয়াহুকে ঘিরে আগের মতো একতরফা সমর্থন নেই বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। ডানপন্থী মহলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বও সম্প্রতি তার সমালোচনায় সরব হয়েছেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকাশ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলেও ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিনির্ধারকেরা আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তববাদী ও স্বার্থনির্ভর অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নির্বাচনী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা নেতানিয়াহুর জন্য এবার আগের মতো সহজ হবে না। অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন এবং চলমান দুর্নীতির মামলার চাপের মধ্যে নেতানিয়াহুর জন্য এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ধরে রাখার সক্ষমতাই আগামী নির্বাচনে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯