বিশ্বকাপ চলাকালে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং ফাইনাল ম্যাচ শেষে মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেমিফাইনালে জয় উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। বিতর্কিত একটি দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবির প্রতীক হিসেবে ব্যানারটি দেখায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ওই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বহু দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। অতীতে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে যুদ্ধও হয়েছিল, যেখানে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ফলে খেলার মাঠে এ ধরনের বার্তা প্রদর্শন নতুন করে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দুই দেশ থেকেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এদিকে শুধু রাজনৈতিক ব্যানারই নয়, ফাইনাল ম্যাচ শেষে মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে হামলা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্যমূলক স্লোগান, ম্যাচ পরিচালনার নিয়ম লঙ্ঘন, নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গ, অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের মতো একাধিক অভিযোগও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।