তীব্র তারল্য সংকট, ব্যাংক ঋণ–সংক্রান্ত জটিলতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে অক্ষমতার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের ১১টি ভারী শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শিল্পগোষ্ঠীটির আর্থিক কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। ব্যাংক থেকে নতুন অর্থায়ন না পাওয়া এবং ঋণপত্র খুলে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় উৎপাদন কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনিশিল্প, ইস্পাত, সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, ব্যাগ উৎপাদনসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পকারখানা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ার পর কয়েক দফায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ নোটিশের মাধ্যমে অবশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও চাকরি থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং শুক্রবার থেকে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কারখানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যেও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং উৎপাদন চালিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং সহায়তা, নগদ অর্থের সংকট এবং কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিল্প খাত–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হওয়া শুধু শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেই নয়, স্থানীয় অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শিল্পখাতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।