কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও, ছবি এবং লেখার বিস্তার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টের কারণে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় নতুন নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানুষের তৈরি মৌলিক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিম্নমানের ভিডিও প্রচার সীমিত করা হবে। একই সঙ্গে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সন্দেহজনক পোস্ট রিপোর্ট করার সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া বারবার একই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিম্নমানের ভিডিও তৈরি করে আয় করার সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং নিম্নমানের কনটেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবহার কমিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। ভিডিও সম্পাদনা, ছবি উন্নয়ন, ভাষা সংশোধন বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজে এ প্রযুক্তির ব্যবহার আগের মতোই চালিয়ে যাওয়া যাবে। মূলত মানুষের মৌলিক সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্টের অতিরিক্ত বিস্তার নিয়ন্ত্রণেই নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার বাড়তে থাকায় এমন পদক্ষেপ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য কমাতে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।