২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হত্যার ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শুধু মেসি নন, হুমকির তালিকায় ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, রেফারি ও ফিফার কর্মকর্তারাও। ফাঁস হওয়া একটি পুলিশ নথির বরাত দিয়ে শনিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিসহ একাধিক তারকা ফুটবলার ও ম্যাচ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি, বোমা হামলার সতর্কতা এবং অনলাইন হয়রানির ঘটনা ঘটে। এসব হুমকির কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। পুলিশের নথিতে উঠে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি ছিল মেসিকে হত্যার হুমকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি আটলান্টার একটি স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে হত্যার হুমকি দেন। এমনকি নিজের শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়। আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচকে ঘিরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে স্টেডিয়ামে বোমা রাখা হয়েছে বলেও পুলিশকে ফোন করে দাবি করা হয়। এরপর বিস্ফোরক শনাক্তকারী বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেডিয়ামজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালান।
তবে শুধু মেসিই নন, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিলেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। পুলিশি নথিতে তাঁর হোটেলকে ঘিরে সন্দেহজনক তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। এক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে প্রবেশ করে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা যায়। বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরাও হুমকি থেকে রেহাই পাননি। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ব্যক্তিগত বার্তায় ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও সহকারী রেফারি উইলি দেলাজোকেও মৃত্যুর হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠানো হয়।
ফাঁস হওয়া পুলিশ নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে বিশ্বকাপের বড় তারকাদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন ভয়াবহ নিরাপত্তা হুমকির তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মেসিকে লক্ষ্য করে কথিত বোমা হামলার হুমকির ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।