ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর জরুরি চাহিদা পূরণে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতাদের ওপর চাপ দিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শান পারনেল এক বিবৃতিতে জানান, সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহের প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা একটি স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতাদের আগামী ২১ দিনের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সংস্থাটির হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি পেট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মজুত কমেছে অন্তত ৬৫ শতাংশ। একই সময়ে থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও যুদ্ধের আগের তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন চাপ। গত বছর প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে তা বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। তবে আইনপ্রণেতাদের বাধার কারণে প্রতিরক্ষা ব্যয়সংক্রান্ত বিলটি কংগ্রেসে আটকে রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনাগুলো ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো শিল্পখাতকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু সামরিক ময়দানেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এপি।