লিবিয়ার সবচেয়ে বড় জাওয়িয়া তেল শোধনাগারে একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার স্থানীয় সময় আগুনের সূত্রপাত হলে শোধনাগারে কর্মরত দমকলকর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং কোম্পানি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে শোধনাগারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণে পর্যালোচনা চলছে।
রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে ট্যাংকে আগুন লেগেছে সেখানে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রল মজুত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ট্যাংকটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। ঘটনার পর সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা জারি করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জাওয়িয়া শহরের আকাশে আগুনের বিশাল শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিওয়ের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া শোধনাগারটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের। এটি লিবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গেও সংযুক্ত। অগ্নিকাণ্ডের পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও শোধনাগারের সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত দুই প্রকৌশলী। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও স্থাপনাটির কার্যক্রম চালু ছিল।
তবে এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেই শোধনাগারটিতে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার ভোরে অপরিশোধিত ন্যাফথা সংরক্ষণের একটি ট্যাংক ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে ট্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ন্যাফথা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরপর এমন দুটি ঘটনায় জাওয়িয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে হামলা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তদন্ত শেষ হলে তা স্পষ্ট হবে।