গাজার দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে পানির পাইপলাইন ধ্বংস এবং দুই ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সময়ে কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ, কৃষিজমিতে আগুন দেওয়া এবং একটি বাড়ি ধ্বংসের প্রস্তুতির অভিযোগও উঠেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকারকর্মী আরিফ দারাগমেহ জানান, তুবাস গভর্নরেটের আতউফ ও রাস আল-আহমার এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী পানির পাইপলাইন ধ্বংস করেছে। কয়েক মাস ধরে ওই অঞ্চলে কৃষিজমি পরিষ্কার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নলকূপ ভরাট করার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উত্তর জর্ডান উপত্যকার আইন আল-হিলওয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনি ভাইকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অন্যদিকে নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত তেল গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি ফারুক রমাদানের বাড়ি ধ্বংসের আগে আশপাশের কয়েকটি পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৪ জুলাই ইসরায়েলি দখলদারদের হামলায় ফারুক রমাদান নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলাকারীদের একজনকে নিরস্ত্র করে হত্যার পর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। ওই ঘটনায় তার পরিবারের আরও তিন সদস্য নিহত এবং চার ফিলিস্তিনি আহত হন। এদিকে রামাল্লার কাছে জলজালিয়া গ্রামের পূর্বাঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে আগুন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, পরে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গ্রাম পরিষদের প্রধান ওসামা নাজমি জানান, প্রায় এক বছর আগে ওই এলাকায় ইসরায়েলি দখলদাররা একটি ফাঁড়ি স্থাপন করে। এরপর নিকটবর্তী আল-মাজরা আল-শারকিয়া শহরের ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও দখলদারদের হামলায় ১ হাজার ১৮২ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে।
পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক এসব অভিযান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস এবং বাড়িঘর উচ্ছেদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।