শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ওই

দুই বছরেও ধরা পড়েনি শেরপুর কারাগারের ৩৪৫ পলাতক বন্দি, উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ রাউন্ড গুলি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময় , আপডেট সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়

শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ওই সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৫১৮ বন্দির মধ্যে এখনো ৩৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশও এখনো উদ্ধার হয়নি।


জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শেরপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কারাগারের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে কারাগারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগে অস্ত্র, গোলাবারুদ, নজরদারি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করা হয়। এ সময় কারাগার থেকে ৫১৮ জন বন্দি পালিয়ে যায়।


দীর্ঘ সময়ের অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও এখনো ৩৪৫ জন পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, কারাগার থেকে লুট হওয়া নয়টি অস্ত্র পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া চায়না রাইফেলের ৮৪৪ রাউন্ড গুলির একটিও উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি শটগানের ৩৩১ রাউন্ড গুলির মধ্যে মাত্র ৩২টি উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে দুই ধরনের অস্ত্রের মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি এখনো নিখোঁজ রয়েছে।


এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শেরপুর জেলা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, পলাতক বন্দিদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শেরপুর মডেল ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ারা সোহেলী বলেন, পলাতক অপরাধীদের পাশাপাশি নিখোঁজ গোলাবারুদও দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। তা না হলে জেলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও দ্রুত পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং নিখোঁজ গোলাবারুদ উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। শেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শাহ্ রফিকুল ইসলাম জানান, ৮৪৪ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি এবং শটগানের ২৯৯ রাউন্ডসহ মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ৩৪৫ জন বন্দি এখনো পলাতক রয়েছেন।


শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিখোঁজ গোলাবারুদ উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রায় দুই বছর পরও শত শত বন্দি এবং বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পলাতক বন্দিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিখোঁজ গোলাবারুদ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯