কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন

নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’ আনলো মেটা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:৮ সময় , আপডেট সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:৮ সময়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। একই সঙ্গে নতুন একটি উন্মুক্ত ওজনের এআই মডেল উন্মোচন করেছে মেটা। সোমবার নতুন মডেলটি প্রকাশের সময় জাকারবার্গ জানান, শিগগিরই আরও বড় এআই মডেল উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় মডেলের তুলনায় তুলনামূলক ছোট হলেও এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একটি মাত্র গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যায়।


জাকারবার্গ তার ১৪ পৃষ্ঠার এক প্রবন্ধে এআই প্রযুক্তিকে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, এআই অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি হলেও এর নিয়ন্ত্রণ কেবল হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেন্দ্রীভূত রাখাকে নিরাপদ সমাধান হিসেবে দেখা সমস্যাজনক। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে উন্মুক্ত ওজনের এআই মডেলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ এসব মডেল সাধারণত বাণিজ্যিক মডেলের তুলনায় কম ব্যয়ে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো পরিবর্তন ও কাজে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, উন্মুক্ত ওজনের এআই মডেল তৈরিতে চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান মডেল এখনো মূলত নিয়ন্ত্রিত বা বন্ধ কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।


মেটা জানিয়েছে, তারা আরও উন্নত একটি এআই মডেলের ওজনও প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে। এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে প্রতিষ্ঠানটি গত বছর বড় ধরনের বিনিয়োগের পাশাপাশি বিশেষায়িত দল গঠন করেছিল। তবে আগের একটি মডেল প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ার পর এআই কৌশলে পরিবর্তন আনে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে এআই অবকাঠামো নির্মাণে মেটার বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানীয় এলাকাতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার জন্য জাকারবার্গ ১০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।


জাকারবার্গ বলেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় অসুবিধা হলো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি জটিলতা ও বাধা রয়েছে। এআই অবকাঠামোতে চলতি বছর মেটার ব্যয় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলেও তিনি জানান। উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে দেশটির নীতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন জাকারবার্গ। বিশেষ করে তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং মডেল থেকে জ্ঞান আহরণের নির্দিষ্ট পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


একই সঙ্গে মডেল প্রকাশের আগে নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুমোদনের ক্ষমতা মেটার স্বাধীন পরিচালকদের দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাকারবার্গ। তবে বিদেশি উন্মুক্ত এআই মডেলের প্রবেশাধিকার সীমিত করাকে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছেন না তিনি। সব মিলিয়ে, উন্মুক্ত এআই প্রযুক্তির প্রসার এবং নীতিগত বাধা কমানোর পক্ষে জাকারবার্গের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯