সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কায় স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে

নতুন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ইরান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:৯ সময় , আপডেট সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:৯ সময়

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কায় স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, নতুন এই নিরাপত্তা উদ্যোগ ইরানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো কারণ তারা দেখছে না। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ অবস্থান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সমঝোতা মূলত পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তিত প্রবণতার প্রতিফলন।


মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে তিন দেশ পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে। চুক্তির আওতায় একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতিও রাখা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।  তবে ইরানের বক্তব্যে চুক্তিটিকে সরাসরি শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার প্রবণতা নেই। বরং তেহরান মনে করছে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে।


ইরানি মুখপাত্র আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচকও হতে পারে।  বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সমন্বিত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রবণতা এতে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। 


তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, মক্কার এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো।  ফলে মক্কার চুক্তিকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আপাতত সেই উদ্বেগকে প্রশমিত করার বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।


সূত্র: রয়টার্স, মিডল ইস্ট আই।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯