কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২২৪ জনে। সোমবার স্থানীয় সময় ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর দেশজুড়ে ৭০ বারের বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে কম্পন ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় চোকো বিভাগে সর্বশেষ আরও ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ওই বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, সেখানে আরও ১৩৮ জন আহত হয়েছেন। এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে ৭০ বারের বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ কম্পনটি মঙ্গলবার সকালে অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮। মূল ভূমিকম্পের তুলনায় কম শক্তিশালী হলেও দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, সর্বশেষ আফটারশকের উৎপত্তিস্থলও চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। কম্পনটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯৯ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও আফটারশক হতে পারে। মূল ভূমিকম্পের কারণে ভূত্বকে তৈরি হওয়া ফাটল ও পরিবর্তিত অংশের আশপাশে জমে থাকা শক্তি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে।
ফলে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি নতুন করে ভূমিকম্পের ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।