মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। একজনের মাথা ফেটে গেছে। আরেকজনের শরীরে ভাঙা কাচ ঢুকে গুরুতর জখম হয়েছে। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মানিকগঞ্জ ও সিংগাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘কালীগঙ্গা’ বাসটি সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিল। পথে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশার যাত্রী কাউসারের সঙ্গে বাসের যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অটোরিকশাটি ওভারটেক করার সময় সাইড না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে চালকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বাসের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা কাউসারকে মারধর করেন বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ। এরপর বাসটি ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছালে কাউসার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বাসটির ওপর হামলা চালান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলার সময় গ্যাসের পাইপ দিয়ে বাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিম্বি আক্তার এবং ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা আক্তারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক জানান, হামলায় প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং অন্যজনের বুকে ভাঙা কাচ ঢুকেছে।
তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে কাউসারের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, হেমায়েতপুরে বাসের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাঁর ছেলেকে মারধর করেন। পরে রাগের বশে কাউসার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বাসটির কয়েকটি কাচ ভাঙচুর করেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সড়কে একটি ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বাসটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল না। তবে স্থানীয়রা ভুলবশত বাসটিকে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনে করে হামলা করে থাকতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।