দীর্ঘ ১৭ বছর সম্পর্কচ্ছেদের পর আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল ও ভেনেজুয়েলা। দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার সেবা চালুর জন্য সমন্বয় প্রক্রিয়া গঠনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুই দেশ একে অপরের নাগরিকদের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া গঞ্জালেসও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার পেছনে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে ঝুঁকেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত প্রায় ছয় হাজার ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগ পুনঃস্থাপনও এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ২০০৯ সালে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলেও সেই অবস্থান অব্যাহত ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার তেল ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া গত জুনে ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইসরায়েল দেশটিতে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পাঠায়। এসব ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
এদিকে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের নতুন নেতৃত্ব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে ১৭ বছর পর ইসরায়েল ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।