যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশা ক্রমেই ম্লান হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৬৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৭১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবারও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম এক ডলারের বেশি বেড়ে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ফলে টানা কয়েক দিনের দরবৃদ্ধির পর বুধবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ার খবর সাধারণত বাজারে দাম কমার চাপ তৈরি করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা সেই প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আবারও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতেও তেলের বাজার অস্থির থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা।