হরমুজ প্রণালিতে ফের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে জাহাজটি ওমান উপসাগর থেকে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণেই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিতেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল। গত জুলাইয়ে টানা ১৩ দিনের তীব্র উত্তেজনার পর হামলার মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের কার্গো জাহাজে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। এর আগে নাবিকদের একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেছিলেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ চলাকালে মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করেছে এবং দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। এদিকে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। একই সময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে নৌ অবরোধ ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে কিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল।তবে পরবর্তীতে সেই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের জাহাজে হামলার কারণে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি বাড়ছে।