সরকারি চাকরি এখন লাখো তরুণ-তরুণীর কাছে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। লাখ

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১২ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৫৫ সময় , আপডেট সময় : ১২ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৫৫ সময়

সরকারি চাকরি এখন লাখো তরুণ-তরুণীর কাছে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে চলছে প্রক্সি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস, ভুয়া পরিচয় ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা।


সাম্প্রতিক কয়েক মাসে সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চক্রের কিছু সদস্য ধরা পড়লেও মূল হোতাদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। গত ১ আগস্ট সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তাদের মধ্যে একজন ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলেন। বাকি দুজনও সরকারি চাকরিতে কর্মরত।


তদন্তে আবেদনপত্রের হাতের লেখা ও মৌখিক পরীক্ষার সময় পূরণ করা কাগজের হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের হয়ে অন্য ব্যক্তিদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তদন্তকারীরা জানান, অর্থের বিনিময়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র।


শুধু বিসিএস নয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদেও এমন জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। গত ১৯ জুলাই চাকরিতে যোগ দিতে এসে চারজন আটক হন। মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবির সঙ্গে তাদের চেহারার মিল না থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। আটক ব্যক্তিদের দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরির জন্য তারা ১৮ লাখ ও ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষার কোনো ধাপেই তাদের নিজেদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল না। শুধু চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।


এর আগে একই নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে জালিয়াতির অভিযোগে আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হন। এদিকে গত ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষায় উচ্চপ্রযুক্তির ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগে ১২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগে এক দিনে অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী আটকের ঘটনা ঘটেছে।


সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশে ক্যাডেট সহকারী উপপরিদর্শক নিয়োগ, নাবিক ভর্তি, খাদ্য অধিদপ্তর, রেলপথ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাতেও জালিয়াতির অভিযোগে বহু প্রার্থী আটক হয়েছেন। সিআইডি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ডজন সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে কয়েক লাখ থেকে কখনো ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করে।


জালিয়াতির কৌশলও দিন দিন বদলাচ্ছে। কখনো প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করা হচ্ছে, কখনো পরিচয় ও ছবি জালিয়াতির চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর কাছে বাইরে থেকে উত্তর পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জালিয়াত চক্রও নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর বদলে অযোগ্য ব্যক্তি সরকারি চাকরিতে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাহেদ হোসেন জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা আগেও ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিমাণ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জালিয়াতি ঠেকাতে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হবে। মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর ও মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছেও সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরীক্ষার্থী আটক করলেই এই চক্র বন্ধ হবে না। জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা মূল হোতা, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় পরিচয় যাচাই ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। কারণ সরকারি চাকরির একটি পদ শুধু একজনের কর্মসংস্থান নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারো যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯