মেদ কমাতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করতেই হবে—এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত

ব্যায়াম ছাড়াই পর্যাপ্ত ঘুমে ঝরবে শরীরের মেদ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময় , আপডেট সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

মেদ কমাতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করতেই হবে—এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের ধরন, ঘুমের সময় এবং দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমানোর প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে পর্যাপ্ত ঘুমকে। নিয়মিত কম ঘুম হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতেও সহায়ক। চিনি কমানোও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। চিনি ছাড়া বা খুব অল্প চিনি দিয়ে কফি পান করা যেতে পারে। একইভাবে রান্না ও অন্যান্য খাবার তৈরিতে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। তবে কফি সবার জন্য উপযোগী নয়; অতিরিক্ত কফি পান না করে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।


পর্যাপ্ত পানি পান করাও হতে পারে সহজ একটি অভ্যাস। খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করলে কিছুটা সময়ের জন্য পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। বিশেষ করে যারা ঘন ঘন অপ্রয়োজনীয় খাবার খান, তাদের জন্য নিয়মিত পানি পান উপকারী হতে পারে।


ওজন কমাতে চাইলে মিষ্টি কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব পানীয়তে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালোরি থাকতে পারে, অথচ অনেক সময় এগুলো পান করেও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে না। এর পরিবর্তে তাজা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ক্যালোরিযুক্ত জাঙ্ক ফুডও ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই বারবার ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর নাশতা খাওয়ার অভ্যাস কমানো জরুরি। ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবারকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া ভালো।


সন্ধ্যার নাশতার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ সময় অতিরিক্ত তেলযুক্ত ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে মৌসুমি ফল বা চিনি ছাড়া গ্রিন টি বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি গ্রহণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে শুধু একটি বা দুটি অভ্যাস পরিবর্তন করলেই দ্রুত মেদ কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর ওজন কমার প্রক্রিয়া নির্ভর করে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯