টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর দেশে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। মহেশখালীর সামিটের এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায়

সামিট-এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:১৭ সময় , আপডেট সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:১৭ সময়

টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর দেশে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। মহেশখালীর সামিটের এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় শনিবার ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ফলে আগের দিনের তুলনায় দেশের মোট গ্যাস সরবরাহও বেড়েছে।


পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট আংশিক সক্ষমতায় সরবরাহ করছে। এতে গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।


তবে গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। রান্নার চুলা থেকে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বেড়ে যায়। এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা দুটি বয়লারের মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে এরই মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। সেটি চালু করার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ সময় টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। তবে সেই কাজ কবে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


এদিকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামিটের টার্মিনাল থেকেও কয়েক দিন ধরে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরে আসা একটি এলএনজি জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে গ্যাস খালাস শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার ভোরে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিকভাবে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।


শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ বাড়লেও এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হলে গ্যাসের বর্তমান ঘাটতি আরও কমে আসবে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯