ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের কোনো সেশনেই অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতে বড় লিড গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডারের পর লোয়ার অর্ডারও অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলামের জুটি স্বাগতিকদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।
বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারকে দ্রুত ফিরিয়ে দিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স শর্ট বলের কৌশল নেন। উদ্দেশ্য ছিল ব্যাটারদের পুল বা হুক শটে বাধ্য করে বাউন্ডারির কাছে ক্যাচের সুযোগ তৈরি করা। সে অনুযায়ী মাঠেও বেশ কয়েকজন ফিল্ডারকে পেছনে রাখা হয়। তবে সেই পরিকল্পনার মধ্যেই ঘটে যায় বিরল এক ঘটনা। বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজকে করা মিচেল স্টার্কের একটি বল নো-বল ঘোষণা করেন আম্পায়ার। ফিল্ডিংয়ের অবস্থান নিয়ে নিয়ম ভঙ্গ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার এই বোলারকে একই বল আবার করতে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের ম্যাচ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই সময় ফিল্ডিং পজিশন নিয়ে সামান্য ভুলের কারণেই নো-বলটি হয়। ফলে স্টার্কের করা গুরুত্বপূর্ণ ডেলিভারিটিও কাজে আসেনি। এরপরও দারুণ ব্যাটিং চালিয়ে যান মিরাজ। ১১৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তার দৃঢ় ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান। এতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২১৯ রানে। মিরাজ ৬৫ রান এবং তাসকিন আহমেদ ১২ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। অর্থাৎ, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ শুধু বড় লিডই নেয়নি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দিকে অনেকটাই টেনে নিয়েছে। এখন শেষ দুই উইকেটে বাংলাদেশ কত রান যোগ করতে পারে এবং সেই লিড কতটা বড় হয়, সেটিই হয়ে উঠেছে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।