ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের হাতে। দিনের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেন মিরাজ। প্রথম ঘণ্টাতেই তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ইনিংসের ৬০তম ওভারে অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। মিরাজের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৭২ বলে ৩০ রান করেন ক্যারি।
এরপর ৬৭তম ওভারে এসে আরও দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বেউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন মিরাজ। বল ঘুরবে ভেবে ফ্রন্টফুটে খেলতে গিয়ে সরাসরি আসা বলে পরাস্ত হন ওয়েবস্টার। মাত্র ৫ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। মিরাজের ঘূর্ণিতে এরপর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারে শুরু হয় ধস। সপ্তম উইকেটে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও ক্যামেরন গ্রিন। ৭১তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২০০ রান স্পর্শ করলেও তারা তখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড থেকে ২৮ রানে পিছিয়ে ছিল।
কামিন্সকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আরও বড় সাফল্য এনে দেন মিরাজ। ৭৪তম ওভারের শেষ বলে তার করা ডেলিভারিতে শর্ট লেগে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন সাদমান ইসলাম। মাত্র ৮ রান করে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। এই উইকেটটি ছিল ইনিংসে মিরাজের চতুর্থ এবং চতুর্থ দিনে তার তৃতীয় শিকার। কামিন্সের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার টেল-এন্ডারদের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। ৮১ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২৯ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। তার সঙ্গে নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে যোগ দেন মিচেল স্টার্ক।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে আটকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও মিরাজের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে চাপে। ফলে ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়ার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এমন জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয় এক অধ্যায়। তবে জয় নিশ্চিত করতে এখনো অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নেওয়াই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।