ইরানবিরোধী যুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাতে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত

ইরান যুদ্ধে ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষতি ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৬ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৫ সময় , আপডেট সময় : ১৬ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৫ সময়

ইরানবিরোধী যুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাতে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব ড্রোন হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলারেরও বেশি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা রিপার ড্রোনের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এখন হারিয়েছে দেশটি। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ওয়াশিংটন পোস্ট। রিপার ড্রোন মূলত দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী বোমা বহনের সক্ষমতাও রয়েছে।


তবে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এই ড্রোনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক ধীরগতির হওয়ায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উড়তে গিয়ে এগুলো সহজেই প্রতিপক্ষের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ইরানের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতাও এসব ড্রোনের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশেও নিয়মিত এসব ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছিল। ফলে জলপথটির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে রিপার ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।


শুধু ড্রোন নয়, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মজুতও কমেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ব্যবহার হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন অস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর দাবি অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং নতুন করে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহও চলছে।


এর মধ্যেই যুদ্ধের ব্যয় এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের জন্য কংগ্রেসের কাছে ৬৭০০ কোটি ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র ক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ৪৫টি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন দাবির বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের মজুত ও ব্যয়ের ওপর কতটা চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও বাড়ছে আলোচনা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯