ফিফার উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাওয়া আশিয়ান কাপ ফুটবলে ভারতের সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশের সামনে খুলেছে বড় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনায় দেশের ফুটবলে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস। তবে এই সুযোগকে খুব একটা আনন্দের চোখে দেখছেন না বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আশিয়ান কাপকে যেখানে অনেকে বড় প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখছেন, সেখানে কোচের পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাফের আগে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচ খেলে জয় তুলে নিয়ে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে আশিয়ান কাপে খেলে উল্টো হারের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন ডুলি। রোববার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোচ জানান, আশিয়ান কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সবকিছু চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এই প্রতিযোগিতা। সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সূচি ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস। ডুলির মতে, একজন ফুটবলারকে ম্যাচ খেলার উপযোগী অবস্থায় আনতে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন। সাধারণত ঘরোয়া লিগ শুরুর আগে কয়েক সপ্তাহ অনুশীলন এবং এরপর একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে একজন খেলোয়াড় পূর্ণ ফিটনেসে পৌঁছান। অথচ বাংলাদেশের ফুটবলাররা এখনো নিয়মিত লিগের ম্যাচের মধ্যে নেই।
কোচের ভাষ্য, জাতীয় দলের অল্প সময়ের ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের নতুন করে ফিট করে তোলা সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের ক্লাব পর্যায়েই নিয়মিত ম্যাচ খেলতে হবে। তারা যদি লিগে ছয়-সাতটি ম্যাচ খেলে জাতীয় দলে যোগ দিতেন, তাহলে প্রস্তুতি নেওয়া অনেক সহজ হতো। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ঘরোয়া লিগ কবে শুরু হবে, সেটি নিয়েও। লিগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে জাতীয় দলে বাছাই করার সুযোগও পাচ্ছেন না কোচ। ফলে আশিয়ান কাপের আগে কাঙ্ক্ষিত চার সপ্তাহের জাতীয় দলের প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ডুলি চেয়েছিলেন এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে, যাদের হারানোর বাস্তব সম্ভাবনা বাংলাদেশের বেশি। কয়েকটি জয় নিয়ে সাফে গেলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়বে—এমনটাই ছিল তার পরিকল্পনা। কিন্তু আশিয়ান কাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেললে সেই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় কোচ। ভারত সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার দরজা খুললেও, কোচের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রস্তুতি। মাঠে বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ দল আদৌ কতটা প্রস্তুত হতে পারবে, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল বিষয়।