রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ড্রোন ইউনিট পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পাঠানো এই ইউনিটে অভিজ্ঞ ড্রোন চালকরা রয়েছেন, যারা ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও হামলায় রুশ বাহিনীকে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা। শুক্রবার ২১ আগস্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিতস্কির দাবি, রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। এসব সেনার মধ্যে প্রায় এক হাজার প্রকৌশলী ও মাইন নিষ্কাশনকারী সদস্য এবং প্রায় ৪০০ জন ড্রোন চালক রয়েছেন। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, অভিজ্ঞ এসব ড্রোন চালক রুশ বাহিনীর পেছনের অবস্থান থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও হামলায় ব্যবহৃত হবেন। উত্তর কোরীয় সেনারা সরাসরি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে যুদ্ধ না করে রুশ সেনাদের সামনের সারিতে অভিযান চালানোর সুযোগ করে দিতে সহায়তা করবে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠকের পর পিয়ংইয়ং আরও প্রায় ৫০ হাজার সেনা পাঠাতে পারে বলে দাবি করেছেন ভাদিম স্কিবিতস্কি। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এ ধরনের সেনা পাঠানোর খবরকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কুরস্ক অঞ্চলে প্রথম দফায় প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ফিরে যাওয়া সেনারা ড্রোন যুদ্ধের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সামরিক সদস্য পাঠানোর পাশাপাশি রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করছে উত্তর কোরিয়া। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবি, গত বছরের আগস্টের আগে ১৫০টির বেশি এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়াকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার ভরোনজে প্রায় ৯০ জন কর্মী পাঠিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবি, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার বিনিময়ে সামরিক সহায়তা জোরদার করছে। ইতোমধ্যে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে প্যান্টসির-১ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক পেয়েছে এবং আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা সামনে রেখে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।