নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারানো সাত ব্যক্তির মরদেহ নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে ভারতের উত্তর প্রদেশে পৌঁছেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গণ্ডক নদী থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলা থেকে চারটি এবং কুশীনগর জেলা থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গণ্ডক নদীতে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা পানিতে মরদেহগুলো ভাসতে দেখেন। পরে দ্রুতগতির নৌযানের মাধ্যমে মরদেহগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, নদীর প্রবল স্রোতে মরদেহগুলো নেপাল থেকে ভেসে ভারতে এসেছে। মহারাজগঞ্জের নিচলাউল এলাকার মহকুমা প্রশাসক সিদ্ধার্থ গুপ্ত এবং কুশীনগরের অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভার্মা জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নেপালে গত বুধবার ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধস, পাহাড়ি ঢল ও ব্যাপক ভূমিধসে বহু মানুষ হতাহত হন। এ দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনো অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও পৌঁছেছে। গণ্ডক নদীতে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের স্বজনদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশের প্রশাসন।