ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুতের নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই চুক্তিকে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন।
ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রায় নয় মাস পর এই চুক্তির ঘোষণা এলো। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচার ও মাদক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ রয়েছে।
মাদুরো সরকারের পতনের পর থেকেই ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন চুক্তিকে সেই প্রচেষ্টারই বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে চুক্তিটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়াশিংটন নিজেদের কৌশলগত জরুরি তেল মজুত থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসমৃদ্ধ দেশ। দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে বিপুল তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও জরাজীর্ণ অবকাঠামো, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে বৈশ্বিক মোট তেল উৎপাদনের মাত্র প্রায় ১ শতাংশ ভেনেজুয়েলা থেকে আসে।
নতুন চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন অংশীদারিত্ব বাড়লে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দেশটির বিশাল তেলসম্পদ কাজে লাগানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত শর্ত, তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে কার্যকর হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।