মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষায় বই দেখে উত্তর লেখার ঘটনায় চার পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বই খুলে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে চার পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দুই শিক্ষককে পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়। এদিকে পরীক্ষার হলে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
হামলার শিকার সাংবাদিকদের একজন নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ। এ ঘটনায় তিনি শুক্রবার গাংনী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরীক্ষাকেন্দ্রে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বই দেখে পরীক্ষা দিতে দেখে তারা ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক তাদের ওপর হামলা করেন। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সাংবাদিকের করা অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।