বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের সংঘাতের ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিওনেল পারাদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। তবে এই শাস্তিকে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন তিনি। একই ঘটনায় স্পেনের গাভিকে মাত্র এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করায় সিদ্ধান্তের বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার। বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলের পর স্পেন শিরোপা নিশ্চিত করে। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কয়েকজন ফুটবলার।
ঘটনাটি পর্যালোচনা করে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। এর মধ্যে পারাদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে পারাদেসের দাবি, সংঘর্ষের সময় স্পেনের গাভি প্রথমে তাকে বুকে আঘাত করেন। অথচ গাভিকে মাত্র এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ কারণে নিজের শাস্তিকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে আপিলের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কমানো বা প্রত্যাহারের আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুধু পারাদেস নন, শাস্তির মুখে পড়েছেন আরও কয়েকজন আর্জেন্টাইন। নাহুয়েল মলিনাকে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধের পাশাপাশি ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দলের কর্মকর্তা রবের্তো আয়ালাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন ম্যাচের জন্য। অন্যদিকে স্পেনের গাভিকে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা এবং ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা।
এ ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক শাস্তিও পেয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন। খেলাধুলাবহির্ভূত আচরণ, মাঠে বিশৃঙ্খলা, সমর্থকদের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক স্লোগান এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগে ফেডারেশনকে ৩ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচে দর্শকসংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থের এক লাখ ডলার বর্ণবাদবিরোধী কার্যক্রমে ব্যয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দলের হয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কার্যকর হবে। শাস্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর হাতে ১০ দিন সময় রয়েছে।