পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য, পুলিশের কাজে বাধা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে কলকাতা পুলিশ। একই ঘটনায় কর্মসূচির আয়োজকদের বিরুদ্ধেও একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার কলকাতার হেস্টিংস থানায় পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়। ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবসের সভাকে কেন্দ্র করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সভা চলাকালে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খোলা রাখার কথা ছিল। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে পুলিশের দাবি, বাস্তবে রাস্তার দুই পাশের লেনই বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কর্মসূচি চলতে থাকে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, সভা চলাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ও ইশারার পর তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা ব্যারিকেড সরিয়ে দেন। একপর্যায়ে তারা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ ছিল, আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার শুভেন্দু বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাস্তার একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খোলা রাখার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি পুলিশকে এ ঘটনায় এফআইআর করার পাশাপাশি বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
এর আগে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরেও আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিষয়টি পরে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। তখন আদালত কালীঘাট তৃণমূলকে সতর্ক করে জানায়, ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে এফআইআর হওয়ার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।