গুমের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব ব্যক্তি এবং এর নেপথ্যের ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। একই সঙ্গে নিখোঁজ ও গুমের শিকার সব নাগরিককে দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর প্রিয়জনের সন্ধান না পেয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেক পরিবার গভীর মানসিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে তিনি গুমের শিকার সব ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী মত দমনে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম দীর্ঘদিন পর ফিরে এসেছেন। তবে হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস, মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আরও অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। গুম প্রতিরোধে আইনি কাঠামো নিয়েও আপত্তি জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরবর্তী সরকার সেটিকে আইনে পরিণত না করে নতুন একটি খসড়া আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
নতুন খসড়া আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আবার একই বাহিনীর হাতে দেওয়া হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ছাড়া গুমের তথ্যভাণ্ডার সরকারের অধীনে রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, গুম একটি বিশেষ ধরনের গুরুতর অপরাধ। তাই এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য স্বাধীন ও বিশেষ আইনি কাঠামো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।