মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় ইরান। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মোকাবিলায় নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিটি কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তেহরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মিসরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আরাগচি বলেন, কায়রো প্রস্তুত হলেই তেহরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি জানান, ইরান মিসরের সঙ্গে ভালো ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। লেবাননের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবস্থানের কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটির সরকার ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে তেহরান প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে লেবাননের কিছু নীতির সমালোচনা করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নিয়েও বক্তব্য দেন আরাগচি। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনো প্রতিবেশী বা মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলা চালায়নি। বরং এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরানের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট, একদিকে মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে চাইছে ইরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ মোকাবিলায় নিজেদের অবস্থানও কঠোর রাখছে।