চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন ও সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে আইনে পরিণত হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে। ফলে এবার এসব নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারবে বলে জানান তিনি। মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা ছয় হাজার কোটি টাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনী কার্যক্রমের অন্যান্য বিষয়ও কমিশনই সম্পন্ন করবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অর্থ বিভাগ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
নির্বাচন আয়োজনের আগে সরকারের কোনো ‘সবুজ সংকেত’ প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য সরকারের আলাদা কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। কমিশন প্রস্তুত হয়ে তফসিল ঘোষণা করতে চাইলে তা করতে পারবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। ফলে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এখন প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।