রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে পাওয়া কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস একে অপরের সঙ্গে মোট ৮০ বার ফোনে কথা বলেছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, অস্বাভাবিক এই যোগাযোগ হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ঘটনার আগে ও পরের সময় মিলিয়ে দুই আসামির মধ্যে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় একবার করে ফোনালাপ হয়েছে। এত ঘন ঘন যোগাযোগকে স্বাভাবিক মনে করছে না পুলিশ। গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে বাড়ির ছাদে বসে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছিলেন দুই আসামি। তবে আদালতের নির্দেশে করা ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কারাগার থেকে নেওয়া প্রস্রাবের নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবায় থাকা মাদকজাতীয় উপাদান নির্দিষ্ট সময় পর শরীর থেকে কমে যাওয়ায় পরীক্ষায় তা ধরা নাও পড়তে পারে।
মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। এর আগে গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটির তদন্ত করছেন। দুই আসামির অস্বাভাবিক ফোন যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।