রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার মামলায় স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে মামলার তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীসহ দুই কর্মকর্তা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে প্রবেশ করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে দুই দিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তদন্ত কর্মকর্তা তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে আসামিরা এরই মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর না করে কারাগারের গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ২১ আগস্ট ভোররাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। হত্যাকাণ্ডের পর ২৩ আগস্ট সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে ঘটনার নয় দিন পর সংগৃহীত প্রস্রাবের নমুনার ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামলায় সীমান্ত ও বিদ্যুৎ নামে আরও দুই ব্যক্তি আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। চার সদস্যের এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কোনো পরিকল্পনাকারী বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।