নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ হিসেবে থাকা জানালা অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দুটি ভ্যানযোগে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি জানালা চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে নেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ভ্যান দুটি আটক করেন। পরে জানালাগুলো জব্দ করে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর তারা ভ্যান দুটির গতিরোধ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে ভূমি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা পরিষদের জানালাগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে নিরাপত্তা দিয়ে পিকআপে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভূমি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, সরকারি সম্পদ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা মালামাল জব্দ করেছিলেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুল হক বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি সম্পদ অপসারণ, হস্তান্তর কিংবা নিলামের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
তাদের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়া পরিষদের জানালা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি সম্পদ কীভাবে, কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় জনতা ঘোষণা দিয়েছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ইউনিয়ন পরিষদে বসতে দেওয়া হবে না। ফলে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।