সুপারশপ কিংবা বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে—বাদামি ডিম কি সাদা ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর? প্রচলিত ধারণায়

মুরগির খাদ্য ও পালন-পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ডিমের পুষ্টি, রং দেখে নয়

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:০ সময় , আপডেট সময় : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:০ সময়

সুপারশপ কিংবা বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে—বাদামি ডিম কি সাদা ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর? প্রচলিত ধারণায় বাদামি ডিমকে অনেকে বেশি পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক মনে করেন। তবে পুষ্টিবিদ ও বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু ডিমের খোসার রং দেখে এর পুষ্টিগুণ বিচার করা ঠিক নয়। মূলত মুরগির জাত ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ডিমের খোসার রং ভিন্ন হয়। সাদা কিংবা বাদামি—শুধু রঙের পার্থ্যের কারণে কোনো ডিমকে বেশি পুষ্টিকর বলা যায় না।


ডিমের খোসার রং কেন আলাদা হয়?

মুরগির জাত ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই ডিমের খোসার রং নির্ধারণের প্রধান কারণ। বিভিন্ন জাতের মুরগি সাদা, বাদামি এমনকি নীল বা নীলচে-সবুজ রঙের ডিমও পাড়তে পারে। মুরগির শরীরে তৈরি প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ ডিমের খোসায় জমার কারণে এই রঙের পার্থক্য দেখা যায়। এমনকি একই জাতের মুরগির ক্ষেত্রেও বয়স, অসুস্থতা, পরিবেশ ও মানসিক চাপের কারণে ডিমের রং কিছুটা হালকা বা গাঢ় হতে পারে।


খোসার রং কি পুষ্টিগুণে প্রভাব ফেলে?


যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের খোসা সাদা, বাদামি কিংবা অন্য কোনো রঙের হলেও মৌলিক পুষ্টিগুণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। গবেষণাতেও খোসার রংকে ডিমের গুণগত মানের নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে পাওয়া যায়নি। তবে ডিমের আকার অনুযায়ী ক্যালরি ও প্রোটিনের পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে। একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালরি ও ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। বড় আকারের ডিমে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।


ডিমের স্বাদের ক্ষেত্রেও খোসার রং খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ডিম কতটা সতেজ, মুরগিকে কী ধরনের খাবার দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে ডিমটি রান্না করা হচ্ছে—এসব বিষয় স্বাদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।


ডিমের পুষ্টিমান আসলে কীসের ওপর নির্ভর করে?


ডিমের পুষ্টিমান অনেকটাই নির্ভর করে মুরগির খাদ্য, পালন-পদ্ধতি ও পরিবেশের ওপর। মুরগির খাবারে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান যোগ করলে ডিমে সেই উপাদানের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব। যেমন, মুরগির খাদ্যে তিসিবীজের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ উপাদান যোগ করলে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। একইভাবে ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হলে ডিমে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব।


বাদামি ডিমের দাম বেশি কেন?


বাদামি ডিমের তুলনামূলক বেশি দামের পেছনে ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। অতীতে বাদামি ডিম পাড়া মুরগি সাধারণত আকারে বড় হওয়ায় তাদের বেশি খাবারের প্রয়োজন হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা তুলনামূলক কম ডিম দিত। ফলে উৎপাদন খরচও বেশি পড়ত। বর্তমানে উৎপাদনব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও বাদামি ডিমকে বেশি পুষ্টিকর মনে করার প্রচলিত ধারণা এবং অরগানিক বা মুক্তভাবে পালন করা মুরগির ডিমের বড় অংশ বাদামি হওয়ায় বাজারে এসব ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।


ডিম কেনার সময় যা দেখবেন-


ডিম কেনার ক্ষেত্রে শুধু খোসার রংকে গুরুত্ব না দিয়ে সতেজতা, খোসার অখণ্ডতা, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং উৎপাদন পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। পরিষ্কার ও অক্ষত খোসার ডিম বেছে নেওয়া ভালো। প্যাকেটজাত ডিমের ক্ষেত্রে মেয়াদ, সংরক্ষণবিধি এবং মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত তথ্য দেখে কেনা উচিত। অরগানিক বা মুক্তভাবে পালন করা মুরগির ডিম কিনতে চাইলে প্যাকেটের তথ্য ও উৎপাদনকারীর দাবিও যাচাই করা প্রয়োজন।


অর্থাৎ, বাদামি ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর আর সাদা ডিম মানেই কম পুষ্টিকর—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ডিমের খোসার রঙের চেয়ে মুরগির খাদ্য, পালন-পদ্ধতি, ডিমের সতেজতা ও সংরক্ষণব্যবস্থাই পুষ্টিমান নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯