তিন বছরেরও কম সময়ে প্রায় ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও নজিরবিহীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ফেরত যাওয়া যেন স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আফগানদের দেশে ফেরার ঘটনাগুলোর মধ্যে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও রয়েছে।
দেশভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিরে যাওয়া আফগানদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকেই প্রায় ২১ লাখ আফগান আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুনে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর পর ২৪ লাখের বেশি আফগান নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান থেকে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিপুলসংখ্যক আফগান পাকিস্তান ও ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তাদের একটি বড় অংশ এখন নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। বর্তমানে পাকিস্তানে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী রয়েছেন। এর বাইরে অনিবন্ধিত আফগান নাগরিকের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবর্তনের পর আফগানিস্তানে তাদের পুনর্বাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিরে যাওয়া মানুষের জন্য আশ্রয়, কর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশে ফিরে যাওয়া আফগানদের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।