অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসা গাজীপুরের কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। সিফাতের অভিযোগ ছিল, মাত্র দুই মাসে তার বাসায় প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তবে পল্লীবিদ্যুতের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার পরিবারের দোতলা বাড়িতে একটি নয়, মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। এসব মিটারের ব্যবহার ও বিলের হিসাব পর্যালোচনা করে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার মো. সিকান্দার আলীর ছেলে এবং রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি জুলাই ও আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীরের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িটির একটি মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিটের বিল আসে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটে ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটে ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটে ৫১৩ টাকা বিল করা হয়। চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
দ্বিতীয় মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুনে ২০০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের জন্য ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে মোট বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
তৃতীয় মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের জন্য ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটের জন্য ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল করা হয়েছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা। অর্থাৎ, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা বিল হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বাসায় থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, একটি বাড়িতে একাধিক মিটার থাকলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সব মিটারের ব্যবহার ও বিলের হিসাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তাদের দাবি, সিফাতের বাড়ির মিটারগুলোর ইউনিট ও অফিসে সংরক্ষিত রিডিং যাচাই করে বিল তৈরিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
তবে সিফাতের পক্ষে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে তিনটি মিটারের বিল মিলিয়ে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা এসেছে। পল্লীবিদ্যুৎ যে তথ্য দিচ্ছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এদিকে ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ঘটনাস্থলে তিনজন তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার তাকে গাজীপুর মহানগর আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।